শেষ (হার্ডকভার) By জুনায়েদ ইভান
Tk 400
Title : শেষ (হার্ডকভার)
Author : জুনায়েদ ইভান
Number of Pages : 128
Author : জুনায়েদ ইভান
Number of Pages : 128
আপনি ঘুম থেকে উঠে স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে ঘরের দক্ষিণ দিকে পুরনো স্মৃতি নিয়ে ঝুলে থাকা দেয়ালঘড়িটির দিকে তাকালেন। তাকিয়ে দেখলেন, ঘড়িটির ওপর একটা দ্বিখণ্ডিত টিকটিকি নড়াচড়া করছে। দ্বিখণ্ডিত বলছি এ কারণে যে, টিকটিকির শরীর থেকে লেজটা আলাদা হয়ে আছে এবং কোনো এক কারণে লেজটিকে আপনার ঘড়ির মিনিটের কাঁটার মতো মনে হতে লাগলো।
শেষ (হার্ডকভার) By জুনায়েদ ইভান
বিছানার পাশে রাখা গতরাতের অর্ধেক ঠান্ডা বাসি চায়ের কাপটাকে সিগারেটের অ্যাশ-ট্রে হিসেবে ব্যবহারের জন্য মনস্থির করে হাতে নিলেন। পরক্ষণেই মনে পড়লো, এই ঘরে কোথাও দেয়াশলাই নেই। শেষরাতে এই দেয়াশলাই না থাকার ক্ষুদ্র ব্যথা নিয়ে ঘুমিয়ে একটা দুঃস্বপ্ন দেখে আপনার ঘুমটা ভেঙে গেছে। দুঃস্বপ্নটা আপনার মনে আছে, তবে সেটাকে নিছক দুঃস্বপ্ন ভেবে মন থেকে সরিয়ে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আপনি শেষমেশ পৌঁছে গেছেন আপনার জীবনের সবচাইতে কঠিনতম সকালের দ্বারপ্রান্তে, যে সকালটাতে ঘুম থেকে ওঠার পর আপনার মনে পড়বে, গতকালও বেঁচেছিলেন।
লেখক পরিচিতি: জুনায়েদ ইভান
১৯৮৮ সালের আগস্ট মাসে আমার জন্ম। আমার জন্ম হয়েছিল ভোরবেলায়। তখন চারদিক থেকে আজানের শব্দ ভেসে আসছে। এর ভেতরে রোগা-লিকলিকে একটা শিশু হাত-পা নাড়িয়ে জানান দিচ্ছে- 'আমি এসেছি, আমার কোনো অনুলিপি নেই'। আমি এমবিএ করেছি একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। একটা রক ব্যান্ডে গান গাই। ফ্যামিলি বলতে আব্বু, আম্মু আর ছোটো দুই বোন- ইশিতা, অর্ণিমা। বর্তমানে দুই বোন আমেরিকায় পড়ালেখা করছে। একবার এক বইয়ের মলাটে লেখক পরিচিতি বয়ানে একটা লেখা পড়েছিলাম, অনেকটা এ-রকম: লেখকের পরিচয় তার গ্রামের বাড়ির ঠিকানায় থাকে না। লেখকের পরিচয় বইয়ের প্রত্যেকটি পৃষ্ঠায়, শব্দে-শব্দে, অক্ষরের ভেতরে মিশে থাকে। আমার কাছেও তাই মনে হয়। বইয়ের ভেতরে যে চরিত্রগুলো ভিন্ন ভিন্ন মতে একমত হন, সেখানে কোনো এক ফাঁকে লেখক লুকায়িত। লেখক এবং তাঁর চরিত্র পৃথক সত্তা, তবু কোথাও-না-কোথাও তাদের মধ্যে এক ধরনের অন্ত্যমিল খুঁজে পাওয়া যাবে।
শেষ (হার্ডকভার) By জুনায়েদ ইভান
বিছানার পাশে রাখা গতরাতের অর্ধেক ঠান্ডা বাসি চায়ের কাপটাকে সিগারেটের অ্যাশ-ট্রে হিসেবে ব্যবহারের জন্য মনস্থির করে হাতে নিলেন। পরক্ষণেই মনে পড়লো, এই ঘরে কোথাও দেয়াশলাই নেই। শেষরাতে এই দেয়াশলাই না থাকার ক্ষুদ্র ব্যথা নিয়ে ঘুমিয়ে একটা দুঃস্বপ্ন দেখে আপনার ঘুমটা ভেঙে গেছে। দুঃস্বপ্নটা আপনার মনে আছে, তবে সেটাকে নিছক দুঃস্বপ্ন ভেবে মন থেকে সরিয়ে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আপনি শেষমেশ পৌঁছে গেছেন আপনার জীবনের সবচাইতে কঠিনতম সকালের দ্বারপ্রান্তে, যে সকালটাতে ঘুম থেকে ওঠার পর আপনার মনে পড়বে, গতকালও বেঁচেছিলেন।
লেখক পরিচিতি: জুনায়েদ ইভান
১৯৮৮ সালের আগস্ট মাসে আমার জন্ম। আমার জন্ম হয়েছিল ভোরবেলায়। তখন চারদিক থেকে আজানের শব্দ ভেসে আসছে। এর ভেতরে রোগা-লিকলিকে একটা শিশু হাত-পা নাড়িয়ে জানান দিচ্ছে- 'আমি এসেছি, আমার কোনো অনুলিপি নেই'। আমি এমবিএ করেছি একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। একটা রক ব্যান্ডে গান গাই। ফ্যামিলি বলতে আব্বু, আম্মু আর ছোটো দুই বোন- ইশিতা, অর্ণিমা। বর্তমানে দুই বোন আমেরিকায় পড়ালেখা করছে। একবার এক বইয়ের মলাটে লেখক পরিচিতি বয়ানে একটা লেখা পড়েছিলাম, অনেকটা এ-রকম: লেখকের পরিচয় তার গ্রামের বাড়ির ঠিকানায় থাকে না। লেখকের পরিচয় বইয়ের প্রত্যেকটি পৃষ্ঠায়, শব্দে-শব্দে, অক্ষরের ভেতরে মিশে থাকে। আমার কাছেও তাই মনে হয়। বইয়ের ভেতরে যে চরিত্রগুলো ভিন্ন ভিন্ন মতে একমত হন, সেখানে কোনো এক ফাঁকে লেখক লুকায়িত। লেখক এবং তাঁর চরিত্র পৃথক সত্তা, তবু কোথাও-না-কোথাও তাদের মধ্যে এক ধরনের অন্ত্যমিল খুঁজে পাওয়া যাবে।